Rangasthalam তেলেগু হিন্দী মুভি রিভিউ


মুভি রিভিউঃ১

#স্পয়লারফ্রী  

 মুভিঃ রাঙ্গাস্থালাম Rangasthalam
জনরাঃএকশন,ড্রামা
রান টাইমঃ২ ঘন্টা ৫৯ মিনিট
রিলিজ ডেটঃ ৩০ মার্চ ২০১৮
আইএমডিবি রেটিংঃ ৮.৪
রোটেন টম্যাটোজ এ ১০০% ফ্রেস এবং ৮৮% গুগল ইউজার মুভিটি পছন্দ করেছে।
বাজেটঃ ৬০ কোটি রূপি 
বক্স অফিস কালেকশনঃ২১৬ কোটি রূপি। 
ডিরেক্টরঃ সুকুমার 
কাস্টঃ রাম চরণ,সামান্তা,আদি,জগপথি বাবু,অনুসয়া, প্রকাশ রাজসহ আরো অনেকে।

✅ Rangasthalam Hindi Dubbed available in Youtube

প্লটঃ ১৯৮০ দশকে রাঙ্গাস্থালাম নামক এক গ্রামের দরিদ্র মানুষের সুখ-দুঃখ নিয়েই মূলত মুভিটি করা হয়েছে।সেখানের মানুষজন কিভাবে একজন ক্ষমতাশালী প্রেসিডেন্টের অধীনে দিনের পর দিন শোষিত হচ্ছিল সেটাই খুবই সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করা হয়।এবং কাহিনীটি এগিয়েছে মূলত এক বধীরকে কেন্দ্র করে যে কানে খুবই কম শুনতে পায়।এতোটুকুই কাহিনী বাকিটা দেখে নিন।রানিং টাইম নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কারন নাই বোরিং হওয়ার চান্স নাই।

প্রথমেই ডিরেক্টর এর কথা বলি সুকুমারকে যে তেলেগুর সবচেয়ে ট্যালেন্টেড ডিরেক্টর বলা হয় তা নিয়ে রাঙ্গাস্থালাম করার পর তিনি আর কোনো প্রশ্নই রাখেন নি।সাধারন প্লট তবে মারাত্মক মেকিং সেন্স ছিলো এই মুভিতে। কাহিনী একেক সময় একেক মোড় নিয়েছে।তাছাড়া সুক্কুর সবচেয়ে ব্যাবসাসফল সিনেমা এটি। এটি তার প্রথম ১০০ কোটি প্লাস এবং ২০০ কোটি প্লাস কালেকশন করা মুভি।

অভিনয়ের দিক দিয়ে সবাই তাদের সেরাটা দিয়েছে। 

প্রথমেই রাম চরণের কথা বলি। এই ধরনের মুভি তামিলে মাঝেমধ্যে দেখা গেলেও তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে একেবারেই দেখা যায় না।রাম চরণের ক্যারিয়ারে এখনো পর্যন্ত সেরা স্ক্রিপ্ট চয়েজ ছিলো এটি।আর অভিনয় তো একেবারে 🔥।মানে ক্যারেকটারের সাথে যেন একেবারেই মিশে গিয়েছিলেন। অভিনয়,এক্সপ্রেশন,কমেডি টাইমিং, এংরি রিএকশন সবই এককথায় অসাধারণ ছিলো।সামান্তাও কম ছিলো না।সামান্তার অভিনয় এক্সপ্রেশন সবই দেখার মত ছিলো।আর ভিলেন হিসেবে জগপথি বাবুর চেয়ে সেরা অভিনেতা আর কে হতে পারে?ওনার লুক আর বডি ল্যাংগুয়েজই যথেষ্ট ছিলো।আদিও সাপোর্টিং রোলে যথেষ্ট ভালো অভিনয় করেছিলেন। তাছাড়া অনুসয়ার ক্যারেকটার প্লাস অভিনয় ও খুবই ইমপ্যাক্টফুল ছিল।মোটকথা একটা ভালো মুভি করার জন্য যা যা লাগে সবই ছিল মুভিটাতে।তাছাড়া মুভির গানের এলবাম টাও সেরা।মুভিটি একশন ড্রামা জনরার হলেও দেখতে বসলে কমেডি,রিভেঞ্জ,সাসপেন্সসহ অনেক কিছুর সাদ পাবেন। 

একটা ভালো প্রচেষ্টা ছিলো এই মুভিটি।তেলগুতে এক ল্যাংগুয়েজেই ২০০ কোটি কালেকশন করা প্রথম মুভি এটি।মুভিটি ওভারসিসেও ভালো কালেকশন করেছিল বিশেষ করে ইউএসএতে।মুভিতে একটা বিষয় খুবই ভালো ছিলো সেটা হলো কোনো অযৌক্তিক, অসম্ভব,দৃষ্টিকটু একশন সিন ছিলো না মুভিটিতে। এই জিনিসটাই মুভিটাকে তেলেগুতে ইউনিক করেছিল।কারনটা বলি মাগাধীরা, বলেন বাহুবলী দুইসময়ের দুই সেরা মুভি ঐগুলার একশন সিন দেখে আমাদের পরের প্রজন্ম হয়তো হাসতে পারে,নাক সিটাকতেও পারে কিন্তু এই মুভিটা দেখলে এই ধরনের কোনো কিছু হওয়ার সম্ভাবনাই নাই।একটা মুভির ক্ষেএে এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। 

মুভিটার একটা বিষয়ই খানিকটা ব্যাকফুটে ছিলো সেটা হলো কালার গ্রাডিয়েন্ট।মানে ৩০/৪০ আগের কাহিনী নিয়ে সিনেমা করলে ইন্ডিয়াতে মুভিটার কালার গ্রাডিয়েন্ট হালকা অস্পষ্ট হয়ে যায়।আর কেজিএফের কথা বলে তো লাভই নাই।হয়তো এই বিষয়টা কাটিয়ে উঠতে আরো কিছু সময় লাগবে।

সব মিলিয়ে ভালো একটা মুভি ছিলো। যারা দেখেন নাই দেখে নিতে পারেন।


✅ Post Author: Perbej