🔰 সিরিজ - মহানগর
🔰 জনরা - পলিটিক্যাল থ্রিলার
🔰 দৈর্ঘ্য - ১৮৭ মিনিট
🔰 অভিনয়ে - মোশাররফ করিম, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, শ্যামল মাওলা প্রমুখ
🔰 বানিয়েছেন - আশফাক নিপুণ
📍সম্প্রতি ওটিটিতে বেশ ভালো কিছু কাজ পেয়েছি আমরা। তার মধ্যে রয়েছে তাকদির, কন্ট্রাক্ট, লাবনী, দ্যা ডার্ক সাইড অব ঢাকা, আকাশ ভরা তারা, বিলাপ আর সর্বশেষ এই মহানগর।
📍সিরিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস "দুইটা কথা মনে রাখবা"
📍ঈশানের মেঘ, চিচিংফাঁক, শাপেবর, গলার কাঁটা, অমাবস্যার চাদ, অন্ধের যষ্টি, গোড়ায় গলদ ও কিস্তিমাত। এই আটটি পর্ব নিয়ে তৈরি মহানগর সিরিজ। নামগুলো একদম ঠিকঠাক।
📌 কাহিনী সংক্ষেপ :::
____________________
একটা গোটা রাত, একটা থানা, একটা এক্সিডেন্ট অথবা খুন, কিছু অজানা কাহিনী এইসবকিছু এক মেলবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে মহানগর সিরিজে। আফনান চৌধুরী নামের এক শিল্পপতির ছেলে পার্টি থেকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোতে গাড়ি চাপা পড়ে এক সাইকেল আরোহী। এবার সেই কেস এসে পড়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি হারুনের কাছে। সে চায় আফনানকে যে কোনভাবে বাঁচিয়ে নিতে যা ট্রেলারেই বোঝা গেছে। তো এবার কি হবে? ওটা কি এক্সিডেন্ট ছিলো নাকি খুন? জানতে হলে দেখে নিন আশফাক নিপুণের বানানো হইচই এর সিরিজ মহানগর।
📌 অভিনয় :::
_____________
প্রধান চরিত্রে মোশাররফ করিম, শ্যামল মাওলা, মোস্তাফিজুর নূর ইমরান, খায়রুল বাশার, জাকিয়া বারি মম। এছাড়া পার্শ্ব চরিত্রে নাজমুস সাকিব, নাসির উদ্দিন খান, নিশাত প্রিয়ম এবং আরো অনেকে। মোশাররফ করিম ওসি হারুন চরিত্রে যথাযথ ছিলেন। একদম সত্যি বললে তার কাছ থেকে ফাটানো কিছু দেখিনি আমি, তবে ভালো করেছেন তিনি। সাব ইন্সপেক্টর মলয় কুমারের চরিত্রে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ছিলেন বেশ ভালো। এই লোকটা সব জায়গাতে দারুণভাবে চরিত্রের সাথে মিশে যান। মহানগরের আগে তার আকাশ ভরা তারাতে অভিনয় ছিলো অনবদ্য আর এটাতেও ছিলেন গোছানো ও পরিপাটি। এরপরে শ্যামল মাওলা আরেকজন যার অভিনয় ভালো লেগেছে। তার অভিনয়ের ভক্ত হয়েছি মানি হানি দেখে, এরপরে আরো কিছু কাজে তাকে ভালো লেগেছে তার মধ্যে কষ্টনীড় অন্যতম আর এবারও তিনি ভালো করেছেন। এছাড়া জাকিয়া বারি মম, খায়রুল বাশারসহ আরো যারা ছিলেন তারা নিজেদের মত করে ভালো করেছেন। তবে পার্শ্ব চরিত্রের নাসির উদ্দিন খান ছিলেন অন্যদের থেকে ভালো।
📌 পরিচালনা :::
_______________
বানিয়েছেন এই শব্দটাকে ট্রেডমার্ক করে তোলা আশফাক নিপুণ এই সিরিজের পরিচালক। ছোটপর্দায় বাংলাদেশি পরিচালক যত জন আছেন তার মধ্যে নিপুন বরাবরই একটু ভীন্ন ধরনের। তার কাজ প্রথম থেকেই পছন্দ করি কারন তার কাজগুলোতে প্রধান জায়গা থেকেও অন্তর্নিহিত কিছু ব্যপার উঠে আসে যেগুলো অন্যদের কাজে দেখা যায় না। মহানগরের ক্ষেত্রেও তাই। আদতে দেখলে মনে হয় একরকম কিন্তু যত সময় গড়িয়েছে ততই উঠে এসেছে অজানা কিছু। এর বাইরেও এমন কিছু ব্যপার তিনি এনেছেন যা আপনাকে ভেতর থেকে নাড়া দিবে। নিপুণ নামের যেন সদ্ব্যবহারই তিনি করেন তার প্রতিটা কাজে। প্রতিটা ফ্রেম খুব যত্নের সাথে নির্মান করেন এই নির্মাতা। মহানগরের পরিচালনায়ও তিনি দেখিয়েছেন সেই মুন্সিয়ানা। আরেকটা জিনিস তার ব্যপারে খুব শোনা যায় তা হলো তিনি ফ্যামিলি ড্রামার বাইরে কিছু করতে পারেন না, এই কথার কড়া জবাব দিয়েছেন আশফাক নিপুণ এই সিরিজে।
📌 সিনেমাটোগ্রাফি :::
____________________
এই সিরিজের ক্যামেরা কথা বলেছে, যাদের সিনেমাটোগ্রাফির ব্যপারে একটু আধটু ধারনা আছে তারা এটা বুঝতে পারবেন। ছোট ছোট ব্যপারগুলো খুব ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন বরকত হোসেন পলাশ। একটা দৃশ্য মনে আছে যেখানে মম শ্যামল মাওলা কিছুটা দূরত্বে মুখোমুখি হয়েছিলো সেখানে দুজনের এক্সপ্রেশন ক্যামেরার মুভমেন্টে খুব সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। এভাবে বাংলাদেশি অন্য কোনো কাজে আমি দেখিনি। এছাড়াও কিছু শেকি মুভমেন্ট ছিলো যা যথযথ ছিলো।
📌 ভালো দিক :::
________________
সিরিজের ভালো দিকগুলোর মধ্যে সবার প্রথমে রয়েছে এর গল্প,। আশফাক নিপুণ নিজেই এই সিরিজের গল্প লিখেছেন। যেখানে তিনি একদম লেটার মার্ক পাবেন। এরপরে চিত্রনাট্য, এদিকেও খুব ভালো কাজ হয়েছে। এরপরে আসে এই সিরিজের সংলাপ। এত জীবন্ত এই সিরিজের সংলাপগুলো কি বলবো। একটা সংলাপ আছে এমন "জীবনে দুইটা জিনিস দরকার। একটা হইলো বিশ্বাস, আরেকটা হইলো সঠিক মানুষের প্রতি বিশ্বাস।" এমন আরো একটা সংলাপ ছিলো এমন "জীবনে দুইজনরে মিথ্যা কথা বলতে হয় না, এক হইলো নিজের মা আর দুই হইলো পুলিশ" এছাড়া আরেকটা সংলাপ দারুণ, যেটা হলো "থানার দেওয়ালেও পয়সা খায়, পয়সা হইলো থানার খানা।" এমন আরো দারুণ দারুণ কিছু সংলাপ রয়েছে এই সিরিজে। ভালো দিকের মধ্যে আরো কয়েকটা জিনিস আছে। সেগুলো হলো সাউন্ড, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ও ডাবিং।
📌 খারাপ দিক :::
________________
প্রথম দিকেই জয়নাল নামের এক কুখ্যাত খুনি ধরার জন্য পুলিশ ফোর্সের একটা ছোটখাটো অপারেশনের দেখা মেলে। সেখানে ঐ খুনির বৃত্তান্ত এমনভাবে দেওয়া হয় যেন কি না কি অথচ পরে দেখা যায় তেমন কিচ্ছু না। তাই জয়নাল চরিত্রে অভিনয় করা আরএ রাহুলকে কাস্ট করা সিরিজের অন্যতম খারাপ দিক। এছাড়া সাংবাদিক চরিত্রেও একজন ছিলো যার অভিনয়ও ছিলো জঘন্য।
📌 ক্লাইম্যাক্স ও টুইস্ট :::
______________________
যে জায়গাতে বড় বড় সিনেমা, সিরিজ মার খেয়ে যায় আর দেশি সিরিজ, সিনেমা তো এখানে আরো আনকোরা। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতোই কিছু দেখানো হয়েছে মহানগরে।
📍রিভিউ এর প্রথম দিকে একটা কথা লিখেছিলাম যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা "দুইটা কথা মনে রাখবা।" এই দুইটা কথাই হলো এই সিরিজ। আরো পরিষ্কার করে বললে অন্তর্নিহিত যে ব্যপারের কথা আমি আগে বলেছি তাই আছে ঐ দুইটা কথা মনে রাখবা উক্তির ভিতরে। এই দুইটা কথাকে আমরা সত্য এবং মিথ্যা, সঠিক এবং ভুল হিসেবেও দেখতে পারি। এই সিরিজ নিয়ে ভাবলে অনেক কিছু আছে। আপনি যত বেশি সৃজনশীল হবেন এই সিরিজে তত বেশি বুদ হয়ে যাবেন, তত বেশি এর ভিতরে লুকিয়ে থাকা মানে বের করতে পারবেন।
ব্যক্তিগত রেটিং - ৮/১০
Post Author: Tushi (FB)
